চাঁচড়ায় ইয়াসিন সিন্ডিকেট আবারো বেপরোয়া

সরকারী স্কুলের,বাজারের দোকানঘর দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানান অভিযোগ এলাকাবাসীর
ওবাইদুল ইসলাম অভি: যশোর সদর উপজেলার গোয়ালদাহ কল্যানদাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব মার্কেটটি এখন স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দখলে। এ দখলদারিতে¦র নের্তৃত্ব দিচ্ছেন একই এলাকার মাহাতাব বিশ্বাসের ছেলে ইয়াসিন বিশ্বাস। স্কুল সুত্রে জানাগেছে, ইয়াসিন বিশ্বাস এতটাই শক্তিশালী সে যা করবেন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তার জিবনে আর শান্তি নাই । দখলবাজ ইয়াসিন বিশ্বাস প্রথমে মার্কেটের তিনটি দোকানঘড় স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নেয়। তারপরে সু-কৌশলে মার্কেটের বাকি কক্ষগুলো দখলে নিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে সম্পুর্ন মার্কেট দখলে রেখে ইয়াসিন নিজেই ভোগদখল করেছে।

এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে খুনজখমের হুমকি প্রদান করে ইয়াসিন। ইয়াসিনের দখল থেকে মার্কেট বাচাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। জানাগেছে,২০০৪-৫ সালে স্কুলের গাছ বিক্রির টাকা দিয়ে এ মার্কেটটি নির্মান করা হয়। গত ১৯ সালের দিকে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন ইয়াসিন বিশ্বাস । যার প্রভাব খাটিয়ে ইয়াসিন বিশ্বাস নিজ নামে একটি,চাচাত ভাই জানেব বিশ্বাসের নামে একটি ও ফিরোজ মাহমুদের নামে একটি মোট তিনটি কক্ষ ডিড করে নেয় এবং প্রথম দিকে ভাড়াও পরিশোধ করেছে ঠিকঠাক। এরপরে যখন সভাপতির পদথেকে বাদ পরে যায় তখন থেকে ইয়াসিনের ভিন্নরুপ দেখতে পান স্থানীয় সচেতন মহল। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জয়নব খাতুন জানান,১৯ সালের জুন মাসে ইয়াসিন একটি স্ট্যাম্প নিয়ে স্কুলে এসে আমাকে(প্রধান শিক্ষিকাকে) স্বাক্ষর করতে বলেন। স্বাক্ষর করতে অস্বিকার করলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায় ইয়াসিন ।

তবুও ওই যাত্রায় স্বাক্ষর করাতে ব্যার্থ হয় ইয়াসিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি সহিদুল ইসলাম বলেন,ইয়াসিন বিশ্বাস সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক তার উপরে কথা বলা যায়না। তিনি স্কুরের মার্কেট জবরদখল করে আছে। আমরা রেজুলেশন করে তাকে নোটিশ দিয়েছি এমনকি ডাকযোগে পাঠানো নোটিশ ইয়াসিন রিসিভ করেনি। এ ব্যাপারে ইয়াসিন বিশ্বাস সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, মার্কেটের তিনটি কক্ষ প্রথমে নিয়েছিলাম ভাড়াও পরিশোধ করেছি । বাকি তিনটি কক্ষ মেরামত করে রেখেছি । আমি চাই সবগুলো ঘরের ভাড়া দিতে কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ ভাড়া নিচ্ছেনা। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জয়নব খাতুন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলেন, প্রশাসন দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন স্কুলের এ সম্পদ সম্পুর্নভাবে বেদখল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা গোয়ালদাহ বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী কাজি বেদারুল কাদির স্বপন বলেন,ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই ।

আমার পৈর্তৃক সম্পত্তির উপরে একটি দোকান ঘর আছে সেটা ভাড়া হিসেবে নিয়ে এখন আর ভাড়া দিচ্ছেনা । ভাড়া চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায় আমি এর প্রতিকার চাই। চাঁচড়া ইউনিয়ন তাঁতী লীগ সভাপতি অধ্যাক্ষ্য মো: ফারুক হোসেন জানান,ইয়াসিন একজন ভুমিখেকো সে যে বাড়িতে বসবাস করছে সেটাও খাঁস জমি দখল করে বাড়ি করেছে। তার বসতবাড়ির জমির কোন দলিল সে দেখাতে পারবেনা। অত্র ইউনিয়নে আপনারা গোঁপনে অনুসন্ধান করলে ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অন্তত ১শ লোকের অভিযোগ পাবেন।

ইয়াসিনের সাথে আরো কয়েকজন আছে এই ইয়াসিন সিন্ডিকেট চরম বেপরোয়া । এ চক্রের বিরুদ্ধে সহসা মানুষ মুখ খুলতে চায়না শুধু ভয়ে। প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে ফারুক হোসেন আরও জানায়,বেপরোয়া ইয়াসিন চক্রের এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে না হলে ইউনিয়নবাসী দিনে দিনে বিপদের সম্মুক্ষীন হবে । এ ব্যাপারে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপ দাশ বলেন, আমি আগামীকালকে খোঁজখবর নিয়ে দেখবো । ইউএনও আরও বলেন,সরকারি স্কুলের সম্পদ কোন ব্যাক্তি জোর করে ভোগ করবে তার সুযোগ নাই।