খুলনা বিভাগীয় কওমী মাদরাসা পরিষদের উলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা বিভাগীয় কওমী মাদরাসা পরিষদের উলামা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান দা.বা.।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) যশোরের সদর উপজেলার সতীঘাটা আশরাফুল মাদারিস মাদরাসা মাঠে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক দা.বা.। খুলনা বিভাগীয় কওমী মাদরাসা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা সায়্যিদ আশহাদ রশীদী দা.বা.।

সকাল ৯ টায় শুরু হওয়া এ সম্মেলনে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। কওমী মাদরাসা পরিষদের লক্ষ্য হলো, ইলমে দীন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। আর উক্ত ফরয দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একজন মানুষ তার প্রকৃত স্রষ্টার পরিচয় লাভ করতে পারে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর খাঁটি বান্দা রূপে গড়ে তুলতে পারে। মুসলিম উম্মাহ’র রাহবর সচেতন উলামায়ে কিরাম রসূল স.-এর যুগ থেকেই এ মোবারক কাজে মুসলিম উম্মাহকে সর্বাত্মক সাহায্য করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার তালীম-তরবিয়তের আদর্শ প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। নববী আদর্শে আপোষহীন উলামায়ে কিরামের যোগ্য রাহবরির মাধ্যমে অল্প দিনেই বিশ্বের আনাচে কানাচে এর সুফল ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দারুল উলূমের ইলমী ফোয়ারা থেকে তৃপ্ত উলামায়ে কিরাম ভারতবর্ষের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ইলমে নববীর বীজ ছড়িয়ে দেন। আর তা থেকে
অঙ্কুরিত হয় অসংখ্য ও অগণিত সবুজ বৃক্ষ। দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ এবং নিসাব ও নিযাম অনুসারে প্রতিষ্ঠা লাভ করে অসংখ্য কওমী মাদরাসা। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে এ সকল দীনী প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত উলামায়ে কিরাম দীনের হেফাজত ও এশাআতে এবং বিদআত ও বাতিল প্রতিরোধে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছেন। হকের শক্তি বৃদ্ধি, বাতিলের মোকাবেলা এবং দীনের হেফাজত ও এশাআতের জন্য উক্ত মাদারিসে

 

উলামা সম্মেলনে কওমী মাদরাসা পরিষদ’ এর উদ্দেশ্য হলো : দারুল উলূম দেওবন্দের ৪টি মূলনীতি তথা- তাওহীদে খালেছ, এত্তেবায়ে সুন্নাত, তাআল্লুক মাআল্লাহ ও এলায়ে কালিমাতুল্লাহ’কে সামনে রেখে উপরিউক্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেজায়ে মাওলা হাসিল করা।

পরিষদের মৌলিক কার্যক্রম হলো:
১. ‘কওমী মাদরাসা পরিষদ’ এর সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপারে ফিকির করা। ২. অনিবন্ধিত মাদরাসাসমূহকে বেফাক ও ‘কওমী মাদরাসা পরিষদ’ এর নিবন্ধনের আওতায় আনা। ৩. পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা জোরদার করা এবং সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে পরিষদের দায়িত্বশীলদেরকে অবহিত করা। ৪. জেলার সাধারণ পরিষদের সদস্য তথা সকল মাদরাসার
মুহতামিমদেরকে নিয়ে প্রতিটি জেলায় বছরে একবার দিনব্যাপি সদস্য সম্মেলন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে একটি মহাসম্মেলনের আয়োজন করা। ৫. সদস্য সম্মেলনে উপস্থিত সদস্যদের থেকে তাদের সুবিধা-অসুবিধা, প্রয়োজন ও পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে শ্রবণ করা। অতঃপর পরিষদের অবস্থান তুলে ধরে তাদের সামনে পরিষদের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তবলী পেশ করা। ৬. বেফাক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদেরকে সদস্য সম্মেলনে সম্মাননা প্রদান করা। ৭.সদস্য সম্মেলনে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ তিনটি মাদরাসাকে এবং জেলাভিত্তিক শ্রেষ্ঠ মাদরাসাকে পুরষ্কৃত করা। ৮. এ ছাড়া যে সকল মাদরাসা থেকে কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষার্থী বেফাক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পাবে সে সকল মাদরাসাকেও পুরষ্কৃত করা। ৯. পরিষদের আওতাধীন মাদরাসাসমূহের বার্ষিক পরিদশর্ণের ব্যবস্থা করা। ১০. ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে ভর্তির সময় কুপনের মাধ্যমে পরিষদের জন্য ২০ টাকা অনুদান গ্রহণ করে ১০ টাকা স্থানীয় কমিটির তহবিলে এবং ১০ টাকা বিভাগীয় তহবিলে প্রদান করা। ১১. সকল জেলার সদস্য সম্মেলন শেষ হলে বিভাগীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহ্বান করে সদস্য সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ১২. জেলার কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় থানা/উপজেলা কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনা এবং পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করত বিভাগীয় কার্যনির্বাহী পরিষদেরসভায় পেশ করে সুরাহার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ১৩. বছরে একবার উপদেষ্টা পরিষদ এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে সাধারণ সভা করা। উক্ত সভায় বিগত বছরের কারগুজারি পেশ করত আগামী এক বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করা।