উপশহরে ”রফিউদ্দীন জিন্নাহ’র নামে সড়কের উদ্বোধন

ওবাইদুল ইসলাম অভি:যশোরের উপশহরে দেশ বরন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক। মরহুম হাজী রফিউদ্দিন আহমেদ জিন্নাহর নামে সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত। শনিবার বেলা ১১ টায় যশোর সদর উপজেলার ৫ নং উপশহর ইউনিয়নের এ ব্লকে সড়ক উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ জহুরুল হক,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হাউজিং এস্টেট যশোরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিদুয়ার হোসেন।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ সেবক কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ৫ নং উপশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন,প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান জহির,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, ডা: অহেদুজ্জামান আজাদ, যুবলীগ নেতা সৈয়দ মনসুর আলম,বিপ্লব সুলতান বিপু,ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আরিফুজ্জামান সবুজ,হাবিবুর রহমান টমাস,হাসান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম রফিউদ্দিন আহ্মেদ জিন্নাহর নানান কাজ ও কর্মের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন।

মঞ্চ সম্রাট
রফিউদ্দীন জিন্নাহ। যখন নাট্যভিনয় শুরু করে তখন মুসলিম পরিবার থেকে সাংস্কৃতিক চর্চার কথা ভাবাই যেত না। সে সময়ে নাট্যশিল্পী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বংশীয় মর্যাদার মান বিচার করা হত। আর মুসলিম হলে তাে কথাই নেই। অবিভক্ত বাংলার যশাের জেলার বনগাঁ মহাকুমার সভাইপুর গ্রামে। জমিদার পরিবারের সন্তান হিসেবে বংশীয় মান শিল্পী হবার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারেনি। তার বাবা হারুন-অর-রশীদ, চাচা এ্যাড. হাবিবুর রহমান, চাচা এ্যাড মােশারফ হােসেন এর অনুপ্রেরণায় অবিভক্ত ভারত এর বিভিন্ন
অঞ্চলে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত। বিখ্যাত শিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস, জ্যোৎস্না বিশ্বাস,
তুষার দাস গুপ্ত, শবরী দাস গুপ্তা, ধীরাজ ভট্টাচার্য, কমল সেন, মিঞা আব্দুল মতিন প্রমুখ গুণী শিল্পীর সাথে দাপটের সাথে অভিনয় করেন। উল্লেখ্য নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর নবাব চরিত্রে, টিপু সুলতানের টিপু চরিত্রে অভিনয়
করে দেশব্যাপি আলােচিত ও নন্দিত হন। বাংলাদেশের খ্যাতনামা গীতশ্রী
অপেরা, দিপালী অপেরা, ফারুনী অপেরা এবং পরবর্তী সময়ে যশােরে বসবাস করার সুবাদে যশাের ইনস্টিটিউট নাট্যকলা সংসদের সাথে সংযুক্ত হয়ে নাট্য শিল্পের ধারাকে গতিবান করেন। তিনি নাটক ও যাত্রা শিল্পের অনেক বড় বড় সম্মাননা পদকে ভূষিত হন। সংস্কার মুক্ত মানুষ হিসেবে তার অনুপ্রেরণায় ছােট ভাই মাহবুবুর রহমান, তার সন্তান কাসেদুজ্জামান
সেলিম, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাদের যথার্য ভূমিকা রেখে নন্দিত হয়েছেন। তাঁর হাতে গড়া অনেক শিষ্য বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন
শাই নাট্যদলে তাদের সুদীর্ঘ পদচারণা চালাচ্ছে। রূপকার নাট্য গােষ্ঠী, যশাের এর প্রজোযনায় উপশহরের নাট্যকার মাে. রজমান আলী রচিত ‘রক্তে রাঙান ফসল” নাটকে খ্যাপা শেখ চরিত্রে অভিনয় করে এবং তাঁর জীবনের শেষ
কার নাটক ইন্দু সাহার “এজন মুন্সির পােষ্টার অভিনয়ের মাধ্যমে গৌরবময় নয়া) অভিনয় জীবনের ইতিটানেন। উপশহরের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ১৯৯৫ সালে গুণীজনদের মূল্যায়ণে তাকে শ্রেষ্ঠ মঞ্চ অভিনেতা ও নির্দেশক হিসেবে সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি যশাের উপশহরে স্বপরিবারে বসবাস করেছেন। তার কাছে বর্তমানে
নাটকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন “সুস্থ সংস্কৃতিকের।
চর্চা ও বিকাশ এর জন্য আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্ন সার্থক হয়েছে।
এবং সব শেষে তিনি বলেন, গুণী মানুষের মূল্যায়নের প্রয়ােজন কেনলা যুগে
যুগে গুণী মানুষের জন্ম হয় না। জন্ম হয় শতাব্দীতে একবার।