মানুষের জীবন বাঁচানো ও অসহায় মানুয়ের পাশে থাকাটাই আমার তৃপ্তি… বাবু মাষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের জীবন বাঁচানো ও অসহায় মানুয়ের পাশে থাকাটাই তার তৃপ্তি, আর এই তৃপ্তি নিয়ে কাজ করে চলেছেন রক্তের ফেরিওয়ালা চৌধুরী আশরাফুজ্জামান বাবু ওরফে বাবু মাস্টার। ১৯৭৭সালে ২১ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণনগর খালপাড়া গ্রামে মোঃ মহসিন চৌধুরী ও মোছাঃ আয়েশা খাতুনের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এসএসসি(বিজ্ঞান বিভাগ) ১৯৯২ ঝিকরগাছা এম এল হাই স্কুল ১ম বিভাগ, এইচএসসি(বিজ্ঞান বিভাগ) ১৯৯৪ ঝিকরগাছা শহীদ মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজ ১ম বিভাগ ও বিএসসি ১৯৯৬ একই কলেজ থেকে ২য় শ্রেণি, বিএড ২০০১ সাল যশোর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ১ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৮সালে দিগদানা খোশালনগর দাখিল মাদ্রাসায় বিএসসি শিক্ষক হিসাবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ২০১২ সাল থেকে ঝিকরগাছা দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বিএসসি(বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে অদ্যবধি চাকুরীরত আছেন। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ২০১২ সালে গণজাগরণ মঞ্চ, ২০১৭ সালে যশোর বেনাপোল মহাসড়ক নির্মানের দাবীতে ৩৮ কিলোমিটার মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন।
তারই নেতৃত্বে ঝিকরগাছা বাজারের উপর ২০১৮ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারী অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেবা নামক একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। যার শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। বর্তমানে সংগঠনটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত। নিবন্ধন নং ১৬৫৭/২১। সেই সময় থেকে আজ অবধি প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি হিসেবে সততার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন বাবু মাস্টার। নিজ উপজেলা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সর্বমোট ১২শত মানুষের জন্য রক্তের ব্যবস্থা, সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের একেবারে নিম্নস্তরের মানুষকে চিকিৎসা সহযোগিতা, গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ, ভ্যান, সেলাইমেশিন কিনে দেওয়া, রমজানে ৫৭০টি পরিবারের কাছে একমাসের ইফতার সামগ্রী, দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদের উপহার শাড়ি লুঙ্গী ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।
করোনাকালীন সময়ে লকডাউনের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক, লিফলেট, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সহযোগিতা সহ করোনা সচেতনতায় মাইকিং, ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন সর্বদা চালু রাখতে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ২৪ঘন্টা একটি ঔষধের দোকান খোলা রাখা, ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা টিকাদানে সরকারকে সহযোগিতা করতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক পাঠান। এছাড়াও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে স্টপেজ পেতে, যশোর বেনাপোল মহাসড়কের মৃত ও ঝুকিপূর্ণ গাছ অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, যশোর বেনাপোল মহাসড়ক নির্মাণ এবং সর্বশেষ ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর নবনির্মিত অপরিকল্পিত সেতু অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
ছোটবেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবীদেরকে ভালোবাসতেন এবং নিজেও বড় হয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন ভাবে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছেন। ধার্মিক, মিষ্টভাষী ও ভদ্র। নিজ এলাকায় তাকে সবাই খুব পছন্দ করে। অন্যকে সাহায্য করতে কখনো দ্বিতীয় বার চিন্তা করেন না। কালের পরিক্রমায় আজ রক্তের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছেন চৌধুরী আশরাফুজ্জামান বাবু ওরফে বাবু মাস্টার। তার হাত ধরে ‘রক্ত ভান্ডার’ হয়েছে অনেক সমৃদ্ধ। রক্তদান হয়েছে শত শত ব্যাগ। যাতে উপকৃত হয়েছে চেনা-জানার পাশাপাশি শত শত অজানা ব্যক্তি। মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম করুণায় নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছে শত-শত রোগী। যার পেছনে রয়েছে রক্তের ফেরিওয়ালা বাবু মাস্টারের অপরিসীম অবদান।
কি রাত! কি দিন কারোও রক্তের প্রয়োজনে বা কেউ কোন সমস্যায় থাকলে এর সমাধান মানে বাবু মাস্টার। আর বাবু মাস্টারও কাউকে নিরাশ করে না, যে কোন ভাবেই বাবু মাস্টার তার কাছে সাহায্য চাওয়া সেই ব্যক্তিটিকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল হাতে সব সময় রক্ত খুঁজে ও রক্তদানে উৎসাহিত করতে তিনি একজন সচেতন নাগরিক। মানুষের রক্তের গ্রুপ জানা, বিপদে থাকা মানুষকে সাহায্য করতে রক্ত দানে উৎসাহিত করে দিনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। প্রথম দিকে স্বেচ্ছায় ফ্রি রক্ত দিলেও, বতর্মানে এক্সচেইঞ্জ সিস্টেমের মাধ্যমেও রক্ত দেয়। এখন কোন রোগীকে রক্ত দিলে, এক ব্যাগ রক্তের বিনিময়ে সেই রোগীর কোন আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন।
যতোদিন বাঁচবে ততোদিন মানুষের উপকার করে যাবে বলে সংবাদকর্মীদের নিকট দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে রক্তের ফেরিওয়ালা চৌধুরী আশরাফুজ্জামান বাবু ওরফে বাবু মাস্টার বলেন, রক্তদান ও সংগ্রহ করে মানুষের জীবন বাঁচানো ও অসহায় মানুষের পাশে থাকাটাই আমার তৃপ্তি। আমি ২০১৮সালের পূর্বে থেকে এই কাজে জড়িত আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ। নিজে ২২ বার রক্তদান করেছি, ইনশাআল্লাহ যতদিন বাঁচবো, রক্তদান করে যাবো, কোনো রোগীর রক্ত প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তের ব্যবস্থা করে থাকি। কেউ রক্তদান করতে চাইলে অথবা কারো ডোনারের প্রয়োজন হলে দুজনেরই রক্তের গ্রুপ, নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে কারো রক্তের প্রয়োজন হলে ওই রেজিষ্ট্রারের লিস্ট অনুযায়ী আগ্রহী রক্তদাতাদের সহযোগীতায় স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহ প্রদানকরি। এতে করে ওই রোগীদের জীবনে আশার আলো জাগে।
আমাদের সমাজে বেশির ভাগ মানুষই রক্ত দিতে ভয় পায়। এই ভয় থেকেই নিজের আত্মীয়-স্বজনকেও রক্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকে। আর আমি মানুষের এই ভয়কে দূর করার জন্যই বিপদের সময় রক্ত দেই তবে কৌশলে তাদের (অন্য রোগী) কাছ থেকে পরবর্তি সময়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করি, যাতে করে সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আর কোন মানুষ রক্তের অভাবে অকালে মারা যাবে না। আমি শুধু ঝিকরগাছা উপজেলাতে নয় বরং সেবা সংগঠনের মাধ্যেমে সারা বাংলাদেশ জুড়ে কাজ করতে চাই। এছাড়াও আমাদের এই সেবা সংগঠনকে সাধারণ মানুষের মুখপাত্র হিসেবে এগিয়ে নিতে চাই। আমি আজীবন মানুষের