যশোরে সাংবাদিক পরিবারকে হত্যার হুমকি পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

যশোর ঝুমঝুমপুর নিরিবিলি পাড়ার কিশোর গ্যাং বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক,যশোর:
যশোর ঝুমঝুমপুর নিরিবিলিপাড়া ও ময়লাখানা এলাকা কেন্দ্রীক গড়ে উঠা ১৮/২০ জনের একটি কিশোর গ্যাং এখন বেপরোয়া। আর.এন. রোড মোটর পাটর্স চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাবেক গডফাদার ও পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়ার এক লেবাসধারী সন্ত্রাসী ঝুমঝুমপুর নিরিবিলিপাড়া এবং ময়লাখানা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে নিরীহ এলাকাবাসী এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
মাদক ব্যবসাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যে, এই কিশোর গ্যাং করছে না? কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে, ঝুমঝুমপুর নিরিবিলিপাড়া, ময়লাখানা এলাকা, ঝুমঝুমপুর মাঠপাড়ার রাস্তা, কলোনীপাড়া, মুক্তিযোদ্ধাপাড়া ও বাস্তহারাপাড়া। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে গাঁজা ও ইয়াবার ব্যবসা এবং চাঁদাবাজিসহ শালিস বিচারের নামে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটন করে আসছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ থাকে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এলাকার একজন সাংবাদিক নেতার বাড়ি-ঘরে হামলা ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই সাংবাদিক পরিবারটি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর ময়লাখানার পার্শ্ববর্তী নিরিবিলিপাড়া, মুক্তিযোদ্ধাপাড়া, বাস্তহারাপাড়া ও কলোনীপাড়ায় চাঁদাবাজিসহ মাদকের রমরমা কারবার চালাচ্ছে ১৮/২০ জনের একটি কিশোর গ্যাং। কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী । কিশোর গ্যাং এ চারটি পাড়ায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকার রাস্তায় দাড়িয়ে প্রকাশ্যে মাদক দ্রব্য বিক্রিসহ সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে ফাঁয়দা লুটে থাকে। শহর থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে কিশোর গ্যাংয়ের কাছে গাঁজা ও ইয়াবা সরবরাহ করে থাকে। এরপর তারা খুচরা ও পাইকারি বিক্রি শুরু করে। এছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে তারা কলোনীপাড়া মাঠপাড়ার রাস্তায়, নিরিবিলিপাড়ার হাশেম মিয়ার আমবাগানে, ফজলুল উলুম কওমী মাদ্রাসার পশ্চিমপাশে মেহগনি বাগানে ও ময়লাখানা এলাকায় বিচরণ করে ও নিয়মিত মাদকের আসর বসায়। কিশোর গ্যাংয়ের মাদক ব্যবসায়ীরা একাধিকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে এবং জেলও খেটেছে। তার পরও বন্ধ হয়নি এদের অবৈধ কারবার। কিশোর গ্যাংয়ের মাদকাশক্তদের অশালিন কথাবার্তা ও বেপরোয়া চলাফেরার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় চরম নিরাপত্তহীনতায় রয়েছেন। গত ১ বছর ধরে কিশোর গ্যাংয়ের মাদক সিন্ডিকের সদস্যদের এ জাতীয় অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ঝুমঝুমপুরের ওই চারটি পাড়ার দুই শতাধিক পরিবারের সদস্যরা তাদের হাতে বর্তমানে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ের মাদক বিক্রেতারা মোল্যাপাড়া ও নীলগঞ্জ এলাকার সন্ত্রাসী চক্রের সাথে আঁতাত গড়ে তুলে নির্বিঘেœ এ কারবার চালিয়ে যাওয়ার ফলে নিরীহ লোকজন প্রাণভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। কারণ এদের কাছে রয়েছে অবৈধ পিস্তল, ন্যাপলা ছোরা ও সেভেন গিয়ার চাকু। এলাকার অনেকেই এসব অস্ত্রপাতি দেখে আতংকে রয়েছেন।
এদিকে, কিশোর গ্যাংয়ের মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় ইতিমধ্যে বাড়ি-ঘরে হামলা ও হত্যার হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ। গত শুক্রবার বিকেলে একজন বøাকারের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং সাংবাদিক শেখ দিনু আহমেদ ও তার পরিবারের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানোর জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বরের হস্তক্ষেপে তারা পিছু হটে। চলে যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাং সাংবাদিক পরিবারকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেয়। তারা হুংকার ছোড়ে ‎এই এলাকায় বসবাস করতে হলে সবকিছু দেখে শুনে তাকে চুপচাপ বসে থাকতে হবে। এ নিয়ে কথা বললে তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং একশানে যাবে। এমনকি তাকে পরিবারসহ হত্যা করার হুমকি দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝুমঝুমপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য চাঁদপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ কিশোর গ্যাংয়ের মাদকের এ ব্যবসা উচ্ছেদে তাদের কোন ভূমিকা নেই। তারা সবকিছু জেনে শুনেও রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। যা নিয়ে সচেতন এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এব্যাপারে সচেতন এলাকাবাসী যশোর পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।