ফুল আয়নালকে কাছে না দূরে ঠেলেছে!

আবুল কালাম আজাদ,ঝিকরগাছা(যশোর) সংবাদদাতা:
ফুলচাষের কারণে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী-পানিসারা অঞ্চলের মানুষের যেমন আজ দ্রারিদ্র্য ঘুঁচেছে। তেমনই গদখালী দেশসহ বিদেশেও ফুলের রাজধানী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। ফুলচাষের কারণে গদখালী, পানিসাসা, নির্বাসখোলা, নাভারণসহ আশপাশের ইউনিয়নে ঘটেছে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন। তবে ফুলচাষ করতে গিয়ে আবার অনেকেই দেউলিয়াও হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফুলচাষে দেউলিয়া হয়ে স্বামী নিরুদ্দেশ থাকায় সংসারের জোয়াল টানছেন আসমা খাতুন।
আসমা খাতুননের ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালীর অদূরে ফুলকানন পানিসারা হাড়িয়া মোড়ে একটি খাবারের দোকান আছে। সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে কিছু খাবার তৈরি করে তার সাথে কিছু কোমল পানি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকম ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসার চলে আসমার।
আসমা খাতুন উপজেলার পানিসারা গ্রামের এসএম আয়নাল হকের স্ত্রী। স্বামী ফুলচাষে দেউলিয়া হয়ে দেনার দায়ে গত পাঁচ বছর ধরে এলাকা ছাড়া। ফলে স্কুল পড়–য়া দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে নানা শংকার ভেতর দিন পার হয় তাঁর।
আসমা খাতুন জানান, ২০০৮ সালে তাঁর স্বামী এসএম আয়নাল হক গ্রামে মাঠে ফুলচাষ শুরু করেন। পরের বছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একবিঘা জমিতে জারবেরা ফুলের সেট করেন। পাশাপাশি পানিসারা হাড়িয়া মোড়ে একটি খাবারের ও ফুলের দোকান দেয়। পরবর্তিতে আরো বেশি টাকা ঋণ নিয়ে ফুলচাষ বাড়ায়। ২০১৪ সালে প্রবর বন্যায় তার জারবেরা ফুলের সেটটি বিনষ্ট হয়ে যায়। এতে করে আয়নালের ব্যাংকের ঋণ আর পরিশোধ করার পরিস্থিতি থাকে না। ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় করলেও সম্ভাব হয়নি। এরমধ্যে ২০১৫ সালে গ্রাম্য বিবাদে তার খাবার ও ফুলের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং লুটপাট করা হয়।
আসমা খাতুন আরো জানান, এক পর্যায় তাঁর স্বামী প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যাংক, এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থায় দেনায় জড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে ২০১৬ সালে দেনার দায়ে সে নিরুদ্দেশ হয়। পাওনাদারদের কারণে আর বাড়ি আসতে পারেনি। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, নাভারন পূবালী ব্যাংকে আয়নাল হকের ঋণের একটি কিস্তিও তিনি দিয়েছেন। সে বন্যার কারণে ফুলচাষে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দায়দেনায় এলাকা বলে দাবি করেন।