পরিমনির চলমান ঘটনায় বিব্রত প্রথম স্বামী কেশবপুরের সৌরভ

জি এম অভি : ঢাকার সিনেমা জগতের আলোচিত নায়িকা পরিমনি গত বুধবার র‌্যাপিট এ্যাকশান ব্যাটালিয়ান(র‌্যাব) এর হাতে আটক হন। আলোচিত এ নায়িকার উচ্চভিলাসী জীবনযাপন ও বিয়ে নিয়ে রয়েছে নানান গুঞ্জন। এ গুঞ্জন ও বাস্তবতার একটি অংশ যশোরের কেশবপুরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে যশোরের কেশবপুর পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর সাহানা কবিরের ছোট ছেলে ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভের সাথে শামসুন্নাহার স্মৃতি পরিমনি’র বিয়ে হয়। বিয়ের পর বহুবার পরিমনি কেশবপুরে এসেছিল। কিন্তু সে সময় পরিমনি এতো আলোচিত না হওয়ায় ঘটনাটি থেকেছে পর্দার আড়ালে। কেশবপুরে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় সুত্র জানায়, সৌরভের বাড়িতে একাধিকবার পরিমনি এসেছিল; তবে পরিমনি সে সময়ে খুবই ভালো ও সভ্যশান্ত প্রকৃতির মেয়ে ছিল। পরিমনির আচারনে মুগ্ধ হয়েছিলেন সৌরভের মা। তখন অবশ্য পরিমনির নাম ছিল শামসুন্নাহার স্মৃতি । প্রথম দিকে পরিমনির আচার ব্যবহার সন্তোষজন হলেও ধীরে ধীরে সে চিত্র জগতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় পাল্টে যায় । ধীরে ধীরে পরিমনি সৌরভের পরিবারকে তচনছ করার চক্রান্ত আটতে থাকে। পরিমনি শ্বাশুড়ীর সাথে দূর্ব্যবহার শুরু করে। তার অসংলগ্ন আচরন ও চলাফেরায় শ্বাশুড়ী বাঁধা দিলে শুরু হয় অশান্তি। এক পর্যায়ে পরিমনির উগ্রতা আর সীমাহীন চলাফেরার কারনে তার সংসার আর বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। ফিল্মী লাইনে উঠতি পরিমনি এক পর্যায়ে সৌরভকে অস্বীকার করে ঢাকায় স্থায়ী হতে শুরু করে। যা এক পর্যায়ে ডিভোর্সে রূপ নেয়। পরিমনির লাইফস্টাইল নিয়ে কথা হয় তার প্রথম স্বামী যশোরের কেশবপুরের ফেরদৌস কবীর সৌরভের সাথে। কেশবপুরের নিজ বাসায় বসে তিনি বলেন, আমি ফুটবল খেলা করতাম। ২০১২ বছর এইচএসসি পরিক্ষা শেষে ঢাকার একটি কাবে ফুটবল খেলার ডাক পায় । তখন স্ত্রী পরিমনিকে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমায়, রাজধানীর বনশ্রীর সি ব্লকের একটি বাসায় বসবাস করতেন সৌরভ ও স্মৃতি। এক পর্যায়ে পরিমনি মিডিয়ায় স্থায়ী হতে চাইলে বাঁধ সাথে তার স্বামী সৌরভ। যা নিয়ে অশান্তি শুরু হয় সৌরভ ও পরিমনির সংসারে। এক পর্যায়ে এই অশান্তি বিচ্ছেদে রূপ। ব্যর্থতার দায় নিয়ে সৌরভ ফিরে আসে যশোরে। আলাপ চারিতায় সৌরভ জানায়, বর্তমানে আমি যা বলি সেটাও পত্রিকায় আসে আর যেটা না বলি সেটাও দেখি পত্রিকায় আসে । এজন্য এখন গনমাধ্যম কর্মীদেরকে কোন স্টেটমেন্ট দিতে মন চায় না। আর একটা বিষয় হলো পরিমনি যখনই কোন ঝামেলায় জড়ায় তখনই সাংবাদিকরা আমাকে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করেন । যার ফলে আমি বিব্রত হই। সৌরভ আরো বলেন, আমি চেয়েছিলাম পরিমনি একজন আদর্শ গৃহবধূ হিসেবে আমার ঘরে থাকবে। সে সংসার করবে । সে মডেল হবে, চিত্রজগতে যাবে, অনেক বড় নায়িকা হবে – এটা আমি চাইনি। এসব কারনেই আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। তার প্রতি আমার কোন মান অভিমান নাই। তবে তারা কেই কাউকে এখন পর্যন্ত তালাক দেননি বলে সৌরভ জানান। সৌরভের পিতা জাহাঙ্গির কবির পুলিশে চাকরি করতেন । তারা কেশবপুরে স্থায়ী হলেও বাবার পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ভগিরাথপুর গ্রামে। ২০১০ সালে এসএসসি পরিক্ষার পর সৌরভ ওই গ্রামে দাদা হাফিজউদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে স্মৃতি ওরফে পরিমনির সাথে দেখা হয়। পরিমনি থাকতেন তার নানা বাড়ি ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার মরিচ বুনিয়া গ্রামে। জানাযায়, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রেমের টানে স্মৃতি ওরফে পরিমনি কেশবপুরে সৌরভের বাড়িতে চলে আসে। কেশবপুর শহরের অফিসপাড়ায় ফাতেমা মঞ্জিলে ওই বছরের ২৮ এপ্রিল পৌরসভার কাজি ইমরান হোসেন ১ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করেন। সে নিকাহ নামায় পরিমনি স্বাক্ষর করেন স্মৃতি নামে ।