ফার্ম স্থাপনে বৈশ্বিক পরিবেশ ও নীয়ম অনুস্বরণ একান্ত জরুরি! মো:সিরাজুল ইসলাম

মো:সিরাজুল ইসলাম

কোন কাজ করার পূর্বে সে-সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য, তাই ফার্ম করার পূর্বে ফার্ম পরিচালনা সম্পর্কে সবিস্তারে জানা একান্ত জরুরী বটে, মনে রাখা দরকার পোল্ট্রি’তে জানার কোন কমতি নেই এখানে যে-যতটা অভিজ্ঞতা অর্জনে সম্মত হবেন সে-ততটাই সমৃদ্ধশালী অর্থাৎ লাভবান হবেন নিঃসন্দেহে, অতএব বলবো জেনে শুনে অগ্রসর হই।

ভিটি নির্মাণ
আমাদের- ঋতু পরিবর্তনের দেশ বাংলাদেশ, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আবহাওয়ার ব্যপক বিস্তৃত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এর সাথে বর্তমানে যোগ হচ্ছে বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয় অর্থাৎ গ্রীনহাউজে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, যার প্রভাবে বছরের অধিকাংশ সময়ে জলের প্রবাহ থাকছে, বিজ্ঞানীরা এ-ও বলছেন সামনের দিনগুলোতে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সমতল ভূমিগুলো সারা বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকবে এবং এর ব্যাপকতা দেশের সমগ্র এলাকায় কম বেশি পরিলক্ষিত হবে!

সেড নির্মাণে যত্নশীল হোন
যেমন ঘরের ভিটি উঁচু করে নির্মাণ করুন যাতে বর্ষা মৌসুম বা ঝড় বৃষ্টি জলোচ্ছ্বাসে ফার্ম/সেডে কোনক্রমেই পানির প্রবাহ না ঘটে, আর যদি সেটা করা কোন ক্রর্মেই সম্ভব পর-না হয় তবে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে মাচা তৈরি করে সেড তৈরী যেতে পারে, তবুও ঝুঁকি নিয়ে ফার্ম পরিচালনা করা উচিৎ নয়, কেননা এতে লাভের পরিবর্তে যেকোনো মূহুর্তে লোকসানের মুখে পড়াটা অস্বাভাবিক নয় যেটা কারোই কাম্য নয়!

যোগাযোগ ও বিপণন
ফার্ম স্হাপনে যোগাযোগ ব্যবস্হা মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন আর সেক্ষেত্রে প্রথমে বেছে নিয়ে হবে বড় কোন রাস্তার দ্বার যেখানে মালামাল পরিবহনের সকল সুযোগ সুবিধার বৃদ্ধমান এবং সেই সাথে থাকতে হবে বিদ্যুৎ সংযোগ, তবেই নিরাপদে নিচিন্তে ফার্ম স্হাপন করা যেতে পারে!

পণ্য উৎপাদনে লক্ষ্মণীয় বিষয়
প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে আপনি সেখানে ফার্ম স্হাপন করতে চাচ্ছেন সেখানে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে অর্থাৎ যেখানে যে পণ্যের চাহিদা বেশি সেখানে সেই পণ্য উৎপাদন অধিকতর লাভবান, যেমন যেখানে ডিমের চাহিদা বেশি সেখানে লেয়ার মুরগী, হাঁস ও কোয়েল পাখি পালন আর মাংসের চাহিদা বেশী হলে রেডি ব্রয়লার, সোনালী, কক্-মুরগী ও টার্কির ফার্ম করা কিংবা দুধের চাহিদা থাকলে- গরু, ছাগল, মহিষের ফার্ম করা উত্তম!

ঘরের কাঠামো
পরিবেশ গতদিক বিবেচনায় ঘর নির্মাণ জরুরি যেমন ঘরের দৈর্ঘ্য পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি ও উওর দক্ষিণে আড়াআড়ি করে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ এবং ঘরের দৈগ্য-প্রস্তু নির্ভর করে আপনি কতোগুলো প্রাণী পালন করতে চাচ্ছেন তাঁর উপর, যেমন ধরুন আপনি এক হাজারটি ব্রয়লার পালন করতে ইচ্ছুক, সেক্ষেত্রে প্রতিটি জন্য কমপক্ষে ১ফুট জায়গা প্রয়োজন অর্থাৎ (দৈর্ঘ্য ৫০×২০= ১,০০০ফুট) সে হিসাবে আপনি যতগুলো প্রাণী পালন করবেন তত অধিক পরিমাণে জায়গা প্রশস্ত করতে হবে, এখানে মনে রাখতে হবে ঘরের দৈর্ঘ্য যা-ই হোক না কেন প্রস্তু ২০-২৫ ফুটের অধিক না হওয়াটা উত্তম কেনেনা প্রস্তু বেশি হলে আলো-বাতাসের ঘার্তি ঘটতে হতে পারে?

ঘরের উচ্চতা ও ছাউনি
সাইটে কমপক্ষে ৯ ফুট ও মাঝখানে ১১-১২ ফুট করা যেতে পারে এবং ঘরের বাহিরে কমপক্ষে ২-ফুট বাড়তি ছাউনি দিতে হবে যাতে করে ঝড় বৃষ্টির পানি ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে, ঘর নির্মাণে বিশেষ করে খেয়াল রাখা দরকার যাতে দক্ষিণ দিকটা অবশ্যই খোলা থাকে এবং যাতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে।

লেখক পরিচিতি
মো. সিরাজুল ইসলাম, ব্যবস্হাপনা পরিচালকঃ ব্রাদার্স পোলট্রি ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকা! দীর্ঘ দুই যুগ ধরে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত থাকার সুবাদে- প্রান্তিক খামারিদের দূর্দশা সমেস্যা ও শিল্পের সম্ভবনা একান্ত কাছ থেকে অবলোকনের সুযোগ হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে উক্ত বিষয়ে অবতারণা বটে।

Email: brothers [email protected]

Facebook page link-
https://www.facebook.com/Brothers-Poultry-International-Dhaka-Since-1993-102425588358931