আগামীকাল যশোর জেলায় আরো একশ পরিবারকে জমিসহ ঘর উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলায় একশ পরিবারকে জমিসহ ঘর উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপকারভোগী পরিবারের কাছে তিনি নবনির্মিত এসব ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবর্ষ মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীন ২য় পর্যায়ে সারাদেশে ৫৩ হাজার ৩৪০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারেকে জমিসহ ঘর দেয়া হয়েছে। যশোর জেলায় মুজিববর্ষে ১ম ও ২য় পর্যায়ে এ পর্যন্ত মোট ১,১৭৩টি ঘর নির্মিত হয়েছে।
যশোর জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ঝিকরগাছায় ১৪টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে। হস্তান্তরযোগ্য একশ ঘরের নির্মাণ, ভূমি বন্দোবস্ত, কবুলিয়ত দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি শেষ হয়েছে। পুনর্বাসিত পরিবারের জন্য নির্মিত প্রতিটি ঘরে দুইটি কক্ষ, একটি বারান্দা, একটি টয়লেট এবং একটি রান্নাঘর সংযোজিত আছে। দৃষ্টিনন্দন এসব ঘর ইটের দেয়াল ও গাঁথুনি এবং রঙিণ টিনের ছাউনিবিশিষ্ট। প্রতিটি ঘরে জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আরাফাত রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’র মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।খাস জমি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ঝিকরগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা: কাজী নাজিব হাসান।নির্মাণকাজে উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, যশোর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল সবার ঘর থাকবে । তিনি বলেছেন, ‘আমার দেশের প্রতি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে – এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন’। এ লক্ষ্যে তিনি অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষে ১৯৭২ সালে ঘরহীন মানুষের ঘর নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশেই শুরু হয়েছিলো গৃহহীন পুনর্বাসন কার্যক্রম। মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ভূমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের মাইলফলকের এই উৎসব উপজেলা প্রশাসন, ঝিকরগাছা,যশোর স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ অনুসরণ করে আয়োজন নিশ্চিত করবে।