শার্শায় ভিএফএ সুদাম নন্দীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণে শাস্তিমূলক দন্ডের সুপারিশ

যশোর অফিসঃ যশোরের শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সুদাম নন্দীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক দন্ড প্রদানের জন্য সুপারিশ করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। সুপারিশ পত্রটি গত ০৪/০৫/২০২১ তারিখ প্রেরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

তবে শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সুদাম নন্দী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো ভুলবশতঃ হয়েছে। আমি এরজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

সুপারিশ পত্র সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পত্রে বলা হয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যক্রম জরুরী বিবেচনায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে দাপ্তরিক সেবা প্রদান করতে হবে। শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কর্মরত ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সুদাম নন্দী গত ১৮/০৪/২০২১ তারিখে দপ্তরে উপস্থিত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর নিজস্ব একাউন্ট থেকে বেলা ১১:৫২ মিনিটে “নামে মাত্র লকডাউন। চলছে সরকারি অফিস। খোলা সবকিছু, নেই কোন সঠিক দিক নির্দেশনা। যে যার মত করে চালাচ্ছে দেশ.’’ স্ট্যাটাসটি পোস্ট করেন।
যেখানে সরকারের প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সকল দপ্তর করোনা মোকাবিলায় লকডাউন সঠিকভাবে কার্যকর করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সেখানে সরকারি দপ্তরের বেতনভূক্ত একজন কর্মচারি হয়ে তাঁর এহেন ফেসবুকীয় স্ট্যাটাস কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা সচেতনমহল।
বহিরাগতদের অফিসের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করা, অফিসের নির্দিষ্ট কর্মঘন্টাসহ নিয়মিত স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সুদাম নন্দীর কৃত অপরাধগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী বিচারযোগ্য। একজন সরকারি কর্মচারি হিসেবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ, রাষ্ট্রীয় ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রকে সহায়তা না করে উল্টো কাজের বিরোধিতা ও সমালোচনা, বহিরাগত ডেকে এনে অফিসের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করানো কোনভাবেই কাম্য নয়। বরং তা উপরোক্ত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণের শামিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন এবং এই মর্মে একমত হয়ে বিভাগীয় ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে আইন অনুযায়ী সুদাম নন্দীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
সুদাম নন্দী গত ০৮/১২/২০২০ তারিখে যশোরের শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর হতে তাঁর পদবী ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট হলেও সব জায়গায় নিজের পদমর্যাদা বাড়াতে ‘উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা- সম্প্রসারণ’ (১১ তম গ্রেড) বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে আসছেন। তিনি ‘উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা-সম্প্রসারণ’ (১১ তম গ্রেড) নেমপ্লেট ও কার্ড তৈরি করেন। যোগদানের ৪ মাসের মধ্যেই তিনি ভেটেরিনারি সার্জনকে অসম্মান, বিভিন্ন সহকর্মীকে অপমান এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে হাজিরা খাতায় অযাচিতভাবে নিজের নাম আগে লিখাসহ অনেক অপকর্ম করেন। এসব কাজে কেউ প্রতিবাদ করলে দলীয় লোকজন দিয়ে অপমান করার হুমকী দেন তিনি। তাঁর পূর্বতন অফিসের রেকর্ড (গাংনী, মেহেরপুর) অনুযায়ী কৃতকর্মের জন্য সেখানে ৩ মাসের বেতন বন্ধ ছিল বলে জানা যায়।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাসুমা আখতার বলেন, এ বিষয়ে বুঝিয়ে বলতে ফোন দিলে তিনি অত্যন্ত খারাপ ভাষা প্রয়োগ করে বলেন “আমার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে যা পারেন তা করেন’’। আমি মৌখিকভাবে খারাপ আচরণে বারবার সাবধান করার পর ও তিনি সংশোধন হননি। উপরন্তু এ সমস্ত আচরণের প্রেক্ষিতে কৈফিয়ত তলবকে কেন্দ্র করে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে বিভিন্ন মহল থেকে ফোন করাচ্ছেন।