টাইম ভিশন 24
বিশেষ প্রতিনিধি:যশোরে দিন দিন ইন্টারনেট ফাইটিং ফ্রি ফায়ার গেমসে ঝুঁকছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও যুবকরা। করোনায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অলস সময়ে এ গেমসে জড়িয়ে পড়ছে তারা। জানা গেছে, যশোরের উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখা ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জড়িয়ে পড়েছে ফ্রি ফায়ার গেমসে । ৭ বছর থেকে ২২ বছরের উঠতি বয়সের শিক্ষার্থী ও যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছেন। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরজমিনে দেখা যায় শহরের নীলগঞ্জ তাঁতি পাড়া, হুসতলা কবরস্থান মোড়, উপশহর, বারান্দী মোল্যা পাড়াসহ শহরের আনাচে কানাচে কিশোর ও যুবকেরা খেলছে ফ্রি ফায়ার গেম। নীলগঞ্জ তাতী পাড়ার বাসিন্দা কদর আলি নিরব ও মো: রাহুল জানায়, এটা খুবই জঘন্য একটি খেলা। এই খেলা চলাকালিন সময়ে মা বাবা ডাকলেও খেলা বন্ধ করে যেতে ইচ্ছা করেনা । ফ্রি ফায়ার গেইম সব এলাকার কিশোর যুবকেরাই খেলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবকেরা জানায়, প্রথমে তাদের কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছেন।

এখন গেমস না খেললে তাদের অস্বস্তি মনে হয় । নবম শ্রেণির ছাত্র্র মো: ইমন হোসেন জানায়, সে পূর্বে গেমস সম্পর্কে কিছু জানতো না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বকচর হুসতলার এক যুবক জানায় ,মাঝে মধ্যে গেমস খেলতে না পারলে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয় তার। সে আরো বলে, ফ্রি ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে সে আর ছাড়তে পারবে না। এটা মাদকের থেকেও ভয়াবহ নেশা। মো: সারুক হোসেন নামের যুবক জানায়, খেলার মাধ্যমে ভাল সময় কাটে ।

শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো: বিপ্লব হোসেন সাগর জানান, এই খেলা শুধু আমাদের এলাকা না শহরের পাড়া মহল্লায় দেখা যায় ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে। জঘন্য এ খেলায় মেতেছেন বেশীরভাগ যুবক। বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও সমাজ সেবক মো: রফিকুল ইসলাম জানান, শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ স্কুল শিক্ষার্থী ও যুবকদের কাছে জনপ্রিয় খেলা ফ্রি ফায়ার গেইম। সারাদিন এদের ধ্যান জ্ঞানে শুধু ফ্রি ফায়ার । যার ফলে পড়াশোনায় অমনযোগী । পিতা মাতার সাথে খারাপ আচারন । এছাড়া এই ধরনের কিশোর ও যুবকেরা ভুলে যায় বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ করার কথা । এ বিষয়ে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ।

তিনি আরও বলেন, বেশকয়জন অভিভাবক আমাকেএসব বিষয় বলেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল ফ্রি ফায়ার নামক গেমসকে মাদকদ্রব্যর নেশার চেয়ে ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক,শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আমাদের সময় আমরা অবসর সময়টি বিভিন্ন খেলা ধুলার মধ্য দিয়ে পার করতাম, কিন্তু এখনকার প্রজন্মের সন্তানদেরকে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

জেলার গ্রাম-গঞ্জেও মোবাইল ইন্টারনেট গ্রুপ গেম মহামারী আকার ধারণ করেছে। শিার্থীরা অনেকে পড়ার টেবিল ছেড়ে খেলছে মোবাইল গেমস, কখনো ইন্টারনেটের খারাপ সাইটে বিভিন্ন ছবি দেখছে। এতে একদিকে তাদের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তাই কিশোর-কিশোরীদের মা-বাবাসহ সমাজের সবারই খেয়াল রাখতে হবে, যেন তারা মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার না করে এবং প্রতিটি সন্তানকে একটু যতœ সহকারে খেয়াল রাখার দায়িত্ব বা কর্তব্য বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয় যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি(অপারেশন) শেখ আবু হেনা মিলন বলেন, ফ্রি ফায়ার গেমসের কথা শুনি। তবে এ বিষয়ে কোন অভিভাবক আমাদের সাথে কিছু বলেনা । তারপরেও ফ্রি ফায়ার গেমস নিয়ে ক্রাইমের সংশ্লিষ্টতা থাকলে অবশ্যই প্রশাসন বিষয়টি দেখবে ।