“মান রাখেনি কেউ” : মহব্বত আলী মন্টু

“মান রাখেনি কেউ”
মহব্বত আলী মন্টু

কহিল রাজা,শোন গো যতেক মন্ত্রী,
করোনা রোগ ছড়িয়েছে গোটা পৃথ্বী।
সজ্জিত কর শতেক চিকিৎসা যন্ত্রী,
মহীপরে সিদ্ধ হোক বঙ্গের মহাকীর্তী।
তোমরা শুধু‌ ভাতা তোল খালি,
প্রজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
উক্তিতে প্রজা না দেয় হাতেতালি,
‌ ‌‌ রাজ্যে যেন হয়না অনাসৃষ্টি।

শীঘ্র কর চেষ্টা করিতে প্রতিকার,
নইলে কারো নিস্তার নাহি আর।

ফরমান শুনে ভাবিয়া হইল খুন,
‌ ‌‌‌‌‌‌মন্ত্রীদের, নিদ্রা নাহি রাত্রে।
দুর্নিতিবাজের মুখে পড়িল চুন,
‌‌‌‌‌ ত্রাসে সবার ঘর্ম বহে গাত্রে।
মন্ত্রী বলে,পলি দিয়ে সীমান্ত দি মুড়ে?
ফিরে যাবে করোনা এত বাধা পেলে।
গগনটা ঢেকে দিলে আসবেনা উড়ে,
যোগ্য মত পলি, যদি কোথাও মেলে।

রাজা বলে,তোমরা সবাই গাধা,
‌ ‌‌‌‌ সর্তকতা-ই এই বিমারেরর বাধা।

করোনা এল রাজ্যে বহু বাড়ি,
‌ ‌ ‌‌‌‌ ‌ ‌‌‌‌‌ ‌ রাস্তা ঘাটে বাধলো মহাদ্বন্ধ।
রান্নাঘরে চড়েনা কোন হাড়ি,
‌‌‌‌‌ লক ডাউনে সবই হলো বন্ধ।
আনিলো পিপিই সাড়ে এগার লক্ষ,
একুশ কোটি ঠুশি নানা রঙ্গে।
ত্রাণ দিবে ঢের, রাজা খুব দক্ষ,
বাণী শুনে প্রজা,খুশি সারা বঙ্গে।

কহিল রাজা,রাজ্যময় পাঠিয়ে দাও ত্রাণ,
‌ ‌‌ অনাহারে প্রজা যেন হারায় না প্রাণ।

করিল চুরি ত্রাণ গুণবন্তে,
পড়িল হোতা ধরা সেরা বর্ষে।
রাজার মান রাখেনি কেউ অন্তে,
মন্ত্রীরা তাই হেরিল চোঁখে সর্ষে।
বসিল পুনঃ জরুরী মন্ত্রী ডাকি,
কহিল রাজা আমারও ছিল সন্ধ।
রাজ্যে‌ আমার হবেনা কোন ফাঁকি, ‌‌ ‌ ‌‌‌‌‌ ‌ কোথাও কোন থাকেনা যেন রন্ধ্র।

বিস্ময়ে কহিল রাজা!করিতে চোরা দুর,
‌‌‌ রাজ্য হলো চোরাই ভরপুর!

মন্ত্রীরা কহে, ধাইবে সকলে হেতা,
‌‌‌‌‌‌‌‌ ধরিবে তাদের ছাড়িয়া সব কর্ম।
পাইক পেয়াদারা পাইবে যেথা,
‌ তুলিয়া ফেলিবে চোরার চর্ম।
কঠিন বিচার হবে যে অবহেলে,
হোকনা কোন ধৃষ্ট কুলপতি।
পরধন চাইবেনা চোঁখ মেলে,
‌ ‌‌ গারদে দেব পাইলে অনুমতি।

ক্রোধে কহিল রাজা,আগেত করোনা মারো,
‌‌‌‌‌ ওদের বিচার করিও পরে আরো।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক
মুক্তেশ্বরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ
যশোর