অবশেষে মনিরামপুরের সেই বৃদ্ধা পেলেন বয়স্ক ভাতার কার্ড

অবশেষে মনিরামপুরের সেই বৃদ্ধা পেলেন বয়স্ক ভাতার কার্ড

মণিরামপুর সংবাদদাতা : অবশেষে বয়স্ক ভাতার কার্ড হাতে পেলেন ৯৫ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাছিনা বেগম।
তাকে নিয়ে ৯৫-তেও বয়স্ক হননি হাছিনা! শিরোনামে শনিবার বিকেলে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে অনলাইনে নিউজ প্রকাশ হয়ার পরে । প্রকাশিত খবরটিতে অসহায় এই বৃদ্ধার বঞ্চনার কথা উঠে আসে। নজর কাড়ে পাঠকের, নড়েচড়ে বসেন কর্তারা। ফলও মিললো দ্রুতই। একদিনের মধ্যেই উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হয়।
চলতি মাসেই বৃদ্ধা হাছিনা ছয় মাসের অগ্রিম ভাতা বাবদ তিন হাজার টাকা পেতে পারেন। অথবা কয়েকমাস পরে একসঙ্গে এক বছরের ভাতা ছয় হাজার টাকা পাবেন।
ভাতার বই হাতে পেয়ে মহাখুশি হাছিনা বেগম।
বৃদ্ধার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানচালক ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মী) মাধ্যমে আমার মায়ের শেষ বয়সে একটা গতি হয়েছে। এতবছর ধরে মায়ের একটা কার্ডের জন্যি কতবার যে চেয়ারম্যান-মেম্বরের পিছনে হাঁটিছি। কেউ কিছু দিইনি। সবাই টাকা চায়।’
মণিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘শনিবার এই সংক্রান্ত সংবাদটি যানার পর রোহিতা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মী সাধনা অধিকারীর সাথে কথা বলি। এরপর বিকেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল হাসান শিল্পীর মাধ্যমে ওই বৃদ্ধাকে আজ (রোববার) অফিসে আসতে বলি। তিনি সকালে অফিসে এসেছেন। এরপর ভাতার কার্ড তার হাতে তুলে দিয়েছি।’
হাছিনা বেগম উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের সরসকাঠি গ্রামের মৃত মালেক গাজীর স্ত্রী। বহু বছর আগে তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। এরপর অন্যের বাড়ি কাজ করতেন তিনি। পরে বড় ছেলে ভ্যানচালক আব্দুল খালেকের কাছে থেকেছেন কিছুদিন। কয়েক বছর আগে বড় ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তারপর থেকে নানা রোগব্যাধি নিয়ে ছোট ছেলে রফিকুল ইসলামের সংসারে ‘বোঝা’ হয়ে আছেন হাছিনা বেগম।